নারায়ণগঞ্জ সংবাদ ॥ গত শুক্রবার
২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে আদমজী
এম ডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমানের স্মরণে ক্রীড়া
প্রতিযোগিতা পুরস্কার ও অসহায়
দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয়
নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক
সম্পাদক ( ঢাকা বিভাগ) নজরুল
ইসলাম আজাদ। এছাড়াও উপস্থিত
ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর
বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু
আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম
আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব,
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, মহানগর যুবদলের
আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, জোসেফ, দিনাসহ আরো অনেকে। এদিকে
কেন্দ্রিয় বিএনপি নেতা আজাদসহ বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা আদমজীতে
এসেছেন শুনে শত শত মানুষ তাদের দেখতে যান। বিভিন্ন প্রিন্ট ও
ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াও ছিলো সরব।
জানা যায়, আজাদকে বিতর্কিত করতে একটি পক্ষের মদদে চক্রান্ত করে
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলি বর্ষণকারী একাধিক হত্যা
মামলার আসামী রাজু।
যে কদমতলী এলাকার বহুল আলোচিত-সমালোচিত
মৃত হুমায়ূন কবীরের ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জের কিশোর গ্যাং লিডার, অস্ত্র, মাদকসহ
ডজনখানী মামলার আসামী, ওসমানদের অন্যতম দোসর সন্ত্রাসী সজুর ছোট
ভাই । এই সজুর বিরুদ্ধে রয়েছে ছাত্র-জনতার উপর গুলি বর্ষণ, হামলা ও ৮টি
হত্যা মামলা। অপরদিকে সন্ত্রাসী সজুর ভাই রাজুর বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি হত্যা
মামলা বলে জানা যায়। গত ৫ আগষ্টের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে তার
সাথে ওসমানদের দোসর কদমতলী এলাকার সন্ত্রাসী সজু ও তার ভাই রাজুও
পালিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নতুন রুপে এলাকায় ফিরে এসেছে। বিএনপি
নেতাদের সুবিধা দিয়ে সেজে যাচ্ছে হাইব্রিড বিএনপি নেতা। সজু এলাকায়
আত্নগোপনে থাকলেও বিএনপি নেতা আজাদ এমডব্লিউ স্কুলে মাঠে এসেছে
শুনে তার পিছু নেয় সন্ত্রাসী রাজু। আজাদ যখন স্টেজে উঠবেন ঠিক সেই
সময়ই আজাদের পিছু পিছু অল্প কিছু লোকজন নিয়ে হাজির হয় সে। স্টেজের
পিছনে ঘুরতে থাকে। ঠিক সেই সময় সিদ্ধিরগঞ্জের একজন সাংবাদিক
অনুষ্টানের আয়োজক আলোর দিশারী যুব সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা
চেয়ারম্যান ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এড. রাকিবুর রহমান
সাগরের নিকট বিষয়টি নজরে আনেন। হত্যা মামলার আসামী ষ্টেজে উঠলে
আজাদসহ সকল বিএনপি নেতারা বিতর্কিত হয়ে যাবে। মিডিয়ার নজর এখন
আজাদ ও বিএনপি সিনিয়র নেতাদের দিকে। এরফলে অনুষ্টানের আয়োজক
সাগরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে জানানো হয়।
ইতিমধ্যে হত্যা মামলার আসামীদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্টান করায় জেলা
বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আলহাজ গিয়াসউদ্দিন বিতর্কিত হয়েছেন। ভেঙ্গে
দেয়া হয়েছে জেলা বিএনপি’র কমিটি। এই ধরনের দিক নির্দেশনার ফলে
বিষয়টি সাগরের নজরে আসে। সাগর তাৎক্ষনিক সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার
আসামী রাজুকে রাগারাগি করেন এবং মুহুর্তের মধ্যে স্থান ত্যাগ করার জন্য
বলে সন্ত্রাসী রাজুকে। এরফলে রাজুর আর স্টেজে উঠা হয়নি বলে জানা যায় ।
এতে করে বিএনপি নেতা আজাদ ও সিনিয়র বিএনপি নেতাদের সুনাম রক্ষা
পায় বলে জানান উপস্থিত অনেকে। এদিকে একাধিক হত্যা মামলার আসামী
হবার পরও সন্ত্রাসী সজুর ভাই রাজু কিভাবে, কার সেন্টারে বিএনপি’র
অনুষ্টানে প্রকাশ্যে এসেছে তা খতিয়ে দেখতে অনতিবিলম্বে রাজুকে
গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে বিএনপি নেতারা। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই
বেরিয়ে আসবে অজানা অনেক তথ্য বলে তারা জানান।
বিএনপি নেতারা জানায়, ফ্যাসিস্ট আ.লীগ আমলে সন্ত্রাসী সজুও তার ভাই
রাজুর অত্যাচারে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছিলো অতিষ্ঠ। নিজেদেরকে
আ.লীগের বড় নেতা জাহির করতে কখনো সিদ্ধিরগঞ্জের আ.লীগ নেতাদের
তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র আ.লীগ নেতা শাহ-নিজাম, এড
খোকন সাহার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। বিএনপি নেতাদের উপর চালায়
অত্যাচার নিপিড়ন। অনেক বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যে মামলা, ঢাকায়
বিএনপি’র সমাবেশে যোগদানের কারনে অনেক বিএনপি নেতাকে মারধর
করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ আছে সন্ত্রাসী সজু ও রাজুর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ
সজু ও রাজুর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রদের
উপর হামলা করার অভিযোগ পায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা। যার প্রেক্ষিতে
তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করে
নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়রা।
রাজু,সজু এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।